চুপ নই | বাংলাদেশ | ২০২৫

সমস্যাটা কী?

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৯ থেকে ২০টি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়। এটা শুধু একটা সংখ্যা না। প্রতিটা সংখ্যার পেছনে একটা মানুষ আছে। একটা পরিবার আছে। একটা জীবন আছে যা আর আগের মতো নেই। এবং এই সংখ্যাও পুরো সত্য না — কারণ বেশিরভাগ ঘটনা আদৌ রিপোর্ট হয় না।

মাগুরা, ২০২৫। একটা শিশু। বয়স আট বছর। পরিচিত মানুষের হাতে নির্যাতিত। মামলা হয়েছে। আদালত চলছে। মিডিয়া তিন দিন আলোচনা করেছে। তারপর চুপ।

তনু। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী। ২০১৬ সালে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার। ১০ বছর পরেও বিচার নেই। তার বাবা আজও আদালতে যান।

পারি। বয়স মাত্র পাঁচ। ঢাকার কাছে একটা গ্রামে। ২০২৩ সালে নিখোঁজ হয়। পরে পাওয়া যায়। যা ঘটেছে তা বলার ভাষা নেই। অভিযুক্ত জামিনে বাড়িতে।

১৯—২০
প্রতিদিন ধর্ষণ মামলা
৯৯%
ভুক্তভোগী অদৃশ্য
১০ বছর।
শূন্য রায়।
১৪ দিনে
মৃত্যুদণ্ডের আইন আছে

বাস্তবতার বিপরীত

আইন আছে। কিন্তু বাস্তবতা আলাদা। এটা দেখুন।

আইনে আছেবাস্তবে নেই

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৩% এর নিচে।

মামলা হয়বিচার হয় না

প্রতি বছর হাজার হাজার মামলা দায়ের হয়। কিন্তু আদালতে মামলার চাপ, সাক্ষী না পাওয়া, এবং প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে অধিকাংশ মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

সংখ্যা বাড়ছেসচেতনতা কমছে

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ২৭% বেড়েছে। কিন্তু মিডিয়া কভারেজ এবং সামাজিক আলোচনা তিন দিনের বেশি থাকে না।

ভুক্তভোগী কথা বলেসমাজ দোষ দেয়

একটা মেয়ে কথা বললে প্রথম প্রশ্ন হয় — সে কী পরেছিল, কোথায় গিয়েছিল। অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।

এই ওয়েবসাইট কোনো সরকারি প্রকল্প না। কোনো এনজিওর ফান্ডিংয়ে চলে না। আমরা কিছু সাধারণ মানুষ, যারা মনে করি — চুপ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় অপরাধ।

আমরা নাম রাখছি। মুখ দেখাচ্ছি। তথ্য সংগ্রহ করছি। এবং যতদিন বিচার না হবে, এই তালিকা বাড়তে থাকবে।

আপনি যদি কোনো ঘটনা জানেন — রিপোর্ট করুন। আপনি যদি কাউকে চেনেন যে এই তালিকায় থাকা উচিত — জানান। আপনি যদি শুধু পড়েন — শেয়ার করুন।

আমরা থামবো না।

চুপ নই। থামবো না।